প্রেমের সম্পর্কের জেরে পার্শ্ববর্তী রুহিয়া থানার রাজাগাও ইউনিয়নের চাপাতি গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে আরিজ ইসলাম আটোয়ারী উপজেলা কাটালী গ্রামের দাইমুল ইসলামের মেয়ে আদরি আক্তারকে গত অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসলামী শরিয়া মোতাবেক উপজেলার বিবাহ রেজিস্ট্রার কাজী মোঃ হাফিজুল ইসলামের মাধ্যমে বিয়ে করেন। আর মেয়ের বাবা দাইমুল ইসলাম ছিলেন একজন অটোরিকশা চালক। অন্যের অটোরিকশা ভাড়ায় চালাতেন তিনি। উভয়ের পরিবারের অমতে বিয়ে করায় তারা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়।
একদিকে ছেলেকে না পেয়ে আরিজের বাবা ইউনুস আলী মেয়ের বাবা দাইমুল ইসলামের নামে আটোয়ারী থানা লিখিত অভিযোগ করেন। লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে আটোয়ারী থানার এসআই মঈন ও তার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দাইমুল ইসলামের বাড়িতে গত অক্টোবর মাসের ২১ তারিখে অভিযান পরিচালনা করে। সেখানে ছেলেমেয়েদের খোঁজ না পেয়ে পরের দিন সকালে দাইমুল ইসলামকে আটোয়ারী থানায় এসে দেখা করতে বলা হয়।
পরের দিন অর্থাৎ ২২ অক্টোবর দাইমুল ইসলাম আটোয়ারী থানায় এসআই মঈনের সাথে দেখা করতে আসে। সেখানে এসআই মঈন দাইমুল ইসলামের সাথে বিভিন্ন খারাপ আচরণ ও অশালীন কথাবার্তা বলতে থাকে। এ সময় এসআই মঈন বলেন, গতকাল আমরা ফোর্স নিয়ে তোমাদের বাসায় গিয়েছি আমাদের তেল খরচ দাও। এক পর্যায়ে এসআই মঈন দাইমুল ইসলামের অটোরিকশার চাবি নিয়ে নেন। এবং বলেন, গতকালের তেল খরচ বাবদ ৩ হাজার টাকা না দিলে গাড়ির চাবি দিবেনা। কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে দাইমুল ইসলাম চলে আসেন এবং তোড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেনের সাথে দেখা করে বিষয়টি খুলে বলেন। তখন মনোয়ার হোসেন ও দাইমুল ইসলাম সহ আরো কয়েকজন গাড়িটি নিয়ে আসতে থানায় যায়। মনোয়ার হোসেন সহ সবাই এসআই মঈনকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। পরে দাইমুলের কাছে থাকা চৌদ্দশ টাকা, তার ভাইয়ের কাছে থাকা একশো এবং মনোয়ার হোসেনের কাছে পনেরশো টাকা হাওলাত নিয়ে এসআই মঈনকে দিয়ে গাড়িটি ছাড়িয়ে আনা হয়।
এর কিছুদিন পর পালিয়ে থাকা আরিজ ও আদরির সন্ধান পায় আটোয়ারী থানা পুলিশ। সন্ধান পেয়ে প্বার্শ্ববর্তী জেলা ঠাকুরগাঁও থেকে তাদেরকে আটোয়ারী থানায় নিয়ে আসা হয়। পথিমধ্যে আরিজকে ছেড়ে দেয় এসআই মঈন। শুধু আদরিকে থানায় নিয়ে এসে রাখা হয় হাজতে।
আদরি জানায়, গাড়িতে করে ঠাকুরগাঁও থেকে আমাদেরকে নিয়ে আসা হবে। আসার সময় পথিমধ্যে আরিজকে ছেড়ে দেয় এসআই মঈন। তাকে ছেড়ে দেওয়ার পর এসআই মঈন আমার সাথে খুব খারাপ ভাষায় কথা বলা শুরু করে। বিভিন্ন অশ্রাব্য ভাষায় আমাকে গালিগালাজ করে সে। এক পর্যায়ে এসআই মইন অন্য পুলিশদের কে বলে, 'এই তোমরা এখান থেকে সবাই চলে যাও তো, এর পালানোর কেমন শখ তার শখ আমি মিটিয়ে দিচ্ছি'। 'বেশি পাকনা হয়ে গেছে, তার পাকনামি আমি ছুটাচ্ছি'। আমি ওই ছেলে থেকে অনেক ভালো আছি আমি তার শখ মেটাতে পারবো'। আদরি আরো জানায়, থানায় নিয়ে এসে এক রাত একদিন তাকে রাখা হয় হাজতে। হাজতে থাকা অবস্থায় বাইরে থেকে বিভিন্ন সময় আমাকে খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করতো। কিন্তু আমি অসহায় ছিলাম বলে সবকিছু নীরবে সহ্য করেছি।
আদরির বাবা দাইমুল ইসলাম জানান, মেয়েকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে আমাকে ফোন করে থানায় যেতে বলা হয়। এরপর মেয়েকে ছাড়িয়ে নিতে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন এসআই মঈন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমাদেরকে থানায় বসিয়ে রাখা হয়। আমরা অনেক অনুরোধ করেছি কিন্তু কোন ভাবেই টাকা ছাড়া মেয়েকে ছেড়ে দিবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন এসআই মঈন। তারপর আমার পরিচিত সাংবাদিক কামরুজ্জামান সাঈদকে বিষয়টি অবগত করি। তিনি এসে এসআই মঈনকে অনেক অনুরোধ করেছেন। তারপর সন্ধ্যা সময় আমাদের মেয়েকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সম্পাদক : শাওন আমিন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মোঃ গিয়াস উদ্দীন, নির্বাহী সম্পাদক : ঝড় আমিন প্রকাশক : মোঃ সোহরাব আলী
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: হালিশহর, চট্রগ্রাম। ঢাকা অফিস : বাসা নং ৫১/৩ ধানমন্ডি ৩/এ ঢাকা-১২০৯
মোবাইল : 𝟎𝟏𝟕𝟏𝟐𝟒𝟏𝟓𝟖𝟓𝟑 𝟎𝟏𝟓𝟖𝟎𝟖𝟐𝟎𝟔𝟔𝟑 𝟎𝟏𝟕𝟏𝟐𝟎𝟔𝟏𝟏𝟔𝟑 𝐄-𝐦𝐚𝐢𝐥 : 𝐬𝐡𝐚𝐰𝐨𝐧𝐚𝐦𝐞𝐞𝐧𝟓@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦