শহীদুল ইসলাম শহীদ,পঞ্চগড় ।।পঞ্চগড়ের বোদায় মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে স্বজনপ্রীতি সহ স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে।
বিভিন্ন সময়ে নানান অভিযোগ উঠলে কৌশলে ম্যানেজ করে পার পেয়ে গেছেন। এবারও তিনি পার পেয়ে যাবেন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নানা অনিয়ম দূর্নীতি ও সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে বোদা উপজেলার নাসির মন্ডল হাট দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা ইউসুফ আলী সেচ্ছাচারীতার অপর নাম হয়ে উঠেছেন। জানা যায়, পারফরমেন্স বেজড গ্র্যান্টস ফর সেকেন্ডারি ইন্সটিটিউশনস (পিবিজিএসআই) স্কিমের আওতায় বোদা উপজেলা সদর ইউনিয়নের নাসির মন্ডলহাট দাখিল মাদ্রাসাকে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। বরাদ্দের অর্থ শিক্ষা উপকরণ, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সুবিধা বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং প্রতিবন্ধী/বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ফ্যাসিলিটি উন্নয়ন (৫টি) খাতে ব্যয়ের নির্দেশনা থাকলেও বঞ্চিত হয়েছে সুবিধা বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা। মাদ্রাসা সুপার ইউসুফ আলী প্রভাব খাটিয়ে স্বেচ্ছাচারিতা করে দরিদ্য মেধাবী শিক্ষার্থীদের বদলে স্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থী এবং মাদ্রাসার শিক্ষকদের সন্তানকে নামের তালিকায় যুক্ত করেছেন। যা অস্বচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এখানেই শেষ নয়, তালিকায় যুক্ত থাকা শিক্ষার্থীদের উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকার চেক গ্রহণ করলেও পরবর্তীতে উত্তোলিত টাকার অর্ধেক নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মাদ্রাসা সুপার কতৃক শিক্ষার্থীদের টাকা আত্মসাতের এহেন ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এমতাবস্থায় মাদ্রাসায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে উপায়ান্তর না পেয়ে আত্মসাৎ কৃত শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দিতেও শোনা যায়।
এ ব্যাপারে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিফাতের বাবা কাওসর আলম বলেন, আমার ছেলেকে প্রথমে ২৫শত টাকা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিল। পরে এ নিয়ে এলাকাবাসী মাদ্রাসায় হট্টগোল শুরু করলে পরের দিন আরও ২৫ শত টাকা ফেরত দিয়েছে। একজন শিক্ষক কিভাবে ছাত্রের টাকা মেরে খায় ভাবতেই অবাক লাগে।
নাসির মন্ডল হাট দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক সালাম মুঠোফোনে বলেন, আমার ছেলে আরাফাত অত্র মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্র তার প্রাপ্ত ৫ হাজার টাকার মধ্যে হারিয়ে না ফেলে তাই আড়াই হাজার টাকা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিলাম, একই কারণে আমার ভাতিজা আব্দুল কাদের জিলানীর প্রাপ্ত ৫ হাজার এর মধ্যে ৩ হাজার রেখে ২ হাজার টাকা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। অভিভাবক হিসেবে এটা আমি করতেই পারি, মাদ্রাসা সুপারের এখানে কোন দোষ নেই। এসময় প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে ওই দুজন শিক্ষার্থীর কাছে তুলে দেয়া অর্ধেক টাকা হারিয়ে যাবার ভয় ছিলো কিনা এবং সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র শিক্ষার্থীদের তালিকায় তাদের নাম যুক্ত থাকাটা নিয়ম মাফিক হয়েছে কিনা জানতে চাইলে, তিনি কোন সদুত্তর না পেয়ে সুপার স্যার সব জানেন বলে ফোন রেখে দেন।
সুবিধাবঞ্চিত অর্থবরাদ্দ পাওয়ার তালিকায় নাম থাকা ... এর মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে ওই শিক্ষার্থী জানান, আমার বাবা আবু সাঈদ নাসির মন্ডল হাট দাখিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের শিক্ষক আমাকে ৫হাজার টাকাই দেয়া হয়েছে কোনো দূর্নীতি হয়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আইবুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছে অর্ধেক টাকা নেয়ার অভিযোগ শুনেছি। ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতির সাথে কথা বলে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের সভাপতি লাতু প্রধানের সাথে যোগাযোগ করা হলে মুঠোফোনে জানান, শিক্ষার্থীদের কাছে টাকা নেয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি করা হয়েছে প্রতিষ্ঠান সুপার এবং সালাম নামের একজন শিক্ষক এর সাথে জড়িত বলে বলে জেনেছি।
সুপার মাওলানা ইউসুফ আলী তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সংবাদ সম্মেলন করে অস্বীকার করেছেন।
সম্পাদক : শাওন আমিন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মোঃ গিয়াস উদ্দীন, নির্বাহী সম্পাদক : ঝড় আমিন প্রকাশক : মোঃ সোহরাব আলী
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: হালিশহর, চট্রগ্রাম। ঢাকা অফিস : বাসা নং ৫১/৩ ধানমন্ডি ৩/এ ঢাকা-১২০৯
মোবাইল : 𝟎𝟏𝟕𝟏𝟐𝟒𝟏𝟓𝟖𝟓𝟑 𝟎𝟏𝟓𝟖𝟎𝟖𝟐𝟎𝟔𝟔𝟑 𝟎𝟏𝟕𝟏𝟐𝟎𝟔𝟏𝟏𝟔𝟑 𝐄-𝐦𝐚𝐢𝐥 : 𝐬𝐡𝐚𝐰𝐨𝐧𝐚𝐦𝐞𝐞𝐧𝟓@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦