।। পঞ্চগড় সংবাদদাতা।।দেশের সর্ব উত্তরের সীমান্ত জেলা শহর পঞ্চগড়ে গত ১১ জানুয়ারি শহিদ ওসমান শরীফ হাদি হত্যার বিচার দাবিতে বাংলাদেশ পন্থী ছাত্র সংগঠনের ব্যানারে মহাসড়ক অবরোধ করে। এ সময় ৪ ঘন্টা ব্যাপী এ অবরোধে পঞ্চগড় জেলা শহর স্থবির হয়ে পড়ে। এ সময় অসুস্থ রোগী ও প্রসব যন্ত্রনায় কাতর মহিলার অ্যাম্বুলেন্সে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা শহরের বাইরে না যেতে পারা এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছাতে প্রচন্ড বিপাকে পড়ে সাধারণ মানুষ । অনেকে বিমানও ধরতে পারেনি। আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শহিদ হাদি হত্যার বিচারের দাবিতেই মুলত এ আন্দলন এবং মহাসড়ক অবরোধ। এসময় পঞ্চগড় জেলা পুলিশ আন্দোলন কারীদের শান্তি পূর্ণ আন্দোলন এবং মহাসড়কের একপাশে দাড়ানোর অনুরোধ করলেও, আন্দোলনকারীরা মানতে রাজী হয়নি। জন ভোগান্তির তোয়াক্কা না করে তারা মহাসড়কে অবস্থান জোরদাড়র করে। লাখো মানুষের ভোগান্তি ও কয়েক সহশ্রাধিক যানবাহনের গতি থেমে যওয়ায় এবং পঞ্চগড় করতোয়া ব্রীজের উভয় পাশে প্রায় ৮ কিঃমি যানজট সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষ মহা বিপাকে সেনাবাহিনীর আশ্রয় চাইতে বাধ্য হয়। সেনাবাহিনী অবস্থা বেগগতিক দেখে, আন্দোলনকারীদের বার বার অনুরোধ করে জানায়, আপনারা আপনাদের শান্তি পূর্ণ আন্দোলন রাস্তার এক পাশে করেন। তাতে মহাসড়ক অবরুদ্ধ না হয়ে জনগন শান্তি পূর্ণ চলাচলের সুযোগ পাবে। কিন্তু আন্দোলনকারীরা সেনাবাহিনীর স্বাভাবিক আবেদনকে তুচ্ছ করে মহাসড়কে শুয়ে পড়ে এবং আরো কঠিন পদক্ষেপ নিয়ে মহাসড়ক দীর্ঘসময় অবরোধ করে রাখে। এ সময় সেনাবাহিনীর সদস্যরা মহাসড়ক ছেড়ে পাশে অবস্থান করার সবিনয় পরামর্শ দেন একাধিক বার। কিন্তু উত্তেজিত আন্দোলনকারীরা এ আবেদনে সাড়া দেয়নি। এক পর্যায়ে সেনাবাহিনী দেশ ও জনগনের স্বার্থে আন্দোলনকারীদের সরাতে গেলে ধ্বস্তাধস্তি শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ পর আন্দোলন কারীরা স্থান ত্যাগ করলে, মহাসড়ক চলাচলের যোগ্য হয়। আর এতেই সেনা সদস্যরা এক মহা বিপাকের স্বীকার হন।এরই ধারাবাহিকতায় আন্দোলনকারীরা সন্ধার পর পঞ্চগড় সেনা কেম্পের সামনে ২ শতাধিক সমর্থক নিয়ে অবস্থান নেয়। এ সময় আন্দোলনকারীদের শান্ত করতে, সেনাবাহিনীর পঞ্চগড় ইউনিট কমান্ডার লেঃ কর্নেল রিয়াসাত রহমান ফারুকী এবং পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক ও এনসিপি নেতা শারজিস আলম উপস্থিত ছিলেন। ওই সময় আন্দোলনকারীরা সেনাবাহিনীর উপর লাঠি চার্জের অভিযোগ এনে বাক বিতন্ডা হলেও, আন্দোলন স্থবির হয়। আন্দোলনকারীরা জানায়, সেনা সদস্যদের আঘাতে কিছু আন্দোলন কারী আহত হয়ে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান জানান, অল্প মাত্রায় আহত বেশ কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি হতে চাইলে আমরা ভর্তি করতে বাধ্য হই এবং প্রথমিক চিকিৎসা দেই। ওই সময় পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক বিষয়টি সুষ্ঠু আমলে এনে আগমীতে এ জাতীয় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটার আশ্বাস প্রদান করেন। ফলে আন্দোলন কারীরা স্থান ত্যাগ করে।
পঞ্চগড়ে শহীদ ওসমান হাদীর হত্যার বিচারের দাবিতে চলা আন্দোলনে লাঠিচার্জের ঘটনায় প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে শিক্ষার্থীদের। জেলা প্রশাসকের দুঃখ প্রকাশ ও আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়ার আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন সমন্বয়করা। সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দীর্ঘ বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠক শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কেরা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বৈঠকে জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান, পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, পঞ্চগড় আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ আল হক, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইকবাল হোসাইনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মোকাদ্দেসুর রহমান সান বলেন, ‘ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় মিটিং হয়েছে। আমাদের দাবি ছিল, ওই দিনের বিচ্ছিন্ন ঘটনার জন্য জেলা প্রশাসককে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে এবং সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডারকে কথা দিতে হবে যেন ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে তা আন্তরিকতার সঙ্গে দেখা হয়। তারা আমাদের দুটি দাবিতেই সম্মতি জানিয়েছেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেছেন।’আরেক সমন্বয়ক খোরশেদ মাহমুদ বলেন, ‘শহীদ ওসমান হাদী ভাইয়ের বিচারের দাবিতে কর্মসূচিতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা জরুরি বৈঠকে বসেছিলাম। আলোচনার মাধ্যমে আমরা একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছাতে পেরেছি। আমরা চাই আগামী দিনেও শিক্ষার্থীরা দেশ গড়ার কাজে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।’
আহতদের বিষয়ে সমন্বয়ক ফজলে রাব্বি বলেন, ‘যারা আহত হয়েছিলেন, তাদের তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেয়া হয়। অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। যারা এখনো হাসপাতালে আছেন, আমরা তাদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছি।’
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, এ ঘটনার পর একটি উত্তপ্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। জরুরি বৈঠকে সকলের সম্মতিতে বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে সমাধান করা হয়েছে। এ ঘটনায় যারা আহত হয়েছেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের চিকিৎসার সব ব্যয় বহন করা হবে।’
এর আগে আগে, রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে শহীদ ওসমান হাদীর হত্যার বিচারসহ চার দফা দাবিতে পঞ্চগড়ের শেরেবাংলা পার্ক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন বাংলাদেশ পন্থী শিক্ষার্থীদের ব্যানারে। কর্মসূচি শেষের দিকে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের সময় সেনাবাহিনীর লাঠিচার্জে অন্তত ২৩ জন শিক্ষার্থী আহত হন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার প্রতিবাদে ওই রাতেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাদী হত্যার বিচার চায় কিন্তু মহাসড়ক অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃস্টি করায় নিন্দা জানান। এ ঘটনায় সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশংসা করেন। এ ঘটনায় সেনাবাহিনী ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করায় ধন্যবাদ জানান।
সম্পাদক : শাওন আমিন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মোঃ গিয়াস উদ্দীন, নির্বাহী সম্পাদক : ঝড় আমিন প্রকাশক : মোঃ সোহরাব আলী
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: হালিশহর, চট্রগ্রাম। ঢাকা অফিস : বাসা নং ৫১/৩ ধানমন্ডি ৩/এ ঢাকা-১২০৯
মোবাইল : 𝟎𝟏𝟕𝟏𝟐𝟒𝟏𝟓𝟖𝟓𝟑 𝟎𝟏𝟓𝟖𝟎𝟖𝟐𝟎𝟔𝟔𝟑 𝟎𝟏𝟕𝟏𝟐𝟎𝟔𝟏𝟏𝟔𝟑 𝐄-𝐦𝐚𝐢𝐥 : 𝐬𝐡𝐚𝐰𝐨𝐧𝐚𝐦𝐞𝐞𝐧𝟓@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦