ফজলার রহমান গাইবান্ধা থেকে ঃ ইতোমধ্যে গাইবান্ধা জেলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নান্দনিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তবে যেসব প্রতিষ্ঠানে বাকী রয়েছে এর মধ্যে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ৪ নং বরিশাল ইউনিয়নের দুবলাগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
গাছের নিচে কিংবা ভাঙা বেড়ার ঘরে বসে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের দৃশ্য এখন অতীত।শহর কিংবা প্রত্যন্ত গ্রামেও এখন আর দেখা মেলেনা এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের।
১৯ নভেম্বর বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে শিক্ষক ৬ জন। ২৫ অর্থ বছরে মোট শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ২৫৮ জন যার মধ্য ৯০ শতাংশের উপস্থিতি।
জেলাজুড়ে এমন দৃষ্টিনন্দন বিদ্যাপীঠ কমই আছে।সাদামাটা একটি গ্রাম। সেখানেই আধুনিক পরিবেশে শিক্ষা লাভ করছে শিক্ষার্থীরা।যেখানে রয়েছে প্রকৃতির কাছ থেকে বিদ্যা লাভ করার সুযোগ। যেখানে ব্যতিক্রম পরিবেশে শিক্ষাদান করা হয়।এখানে ছাত্র-ছাত্রীদের আধুনিক সৃজনশীল পদ্ধতিতে পাঠদান করা হয়। অসাধারণ স্থাপনায় নির্মিত এই বিদ্যালয় ভবনের চারপাশ খোলামেলা। শ্রেণিকক্ষসহ বিদ্যালয়ের সবকিছুই রঙিন প্রচ্ছদে ঢাকা।ছেলে-মেয়েদের জন্য আছে একাধিক আলাদা আলাদা ওয়াশরুম। খেলাধুলার জন্য রয়েছে নানা সরঞ্জাম।বিদ্যালয়ের চারদিকে সবুজের সমারোহ। বিদ্যালয়ের ছাদে ছাদ বাগানে বাহারি রকমের ফুল ও ফলের গাছে আচ্ছাদিত। দেখে মনে শিহরণ জাগে।প্রকৃতির কাছে, গ্রামীণ পরিবেশের বিদ্যালয়টি নান্দনিকতায় যেন নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে। আপন মনে শিশুরা খেলা করছে। মনের আনন্দে লেখাপড়া করছে।বিদ্যালয়জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।রয়েছে পত্রিকার স্টান।দেশ-বিদেশের খবর জানতে শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন পত্রিকা পড়েন।বিদ্যালয় রয়েছে সততা স্টোর। সততার চর্চা শুরু হোক শিশুদের হাত ধরেই বিদ্যালয়ে চালু হওয়া সততা স্টোর সত্যিই একটি অনন্য উদ্যোগ।
এখানে নেই কোনো বিক্রেতা —আছে শুধু সততা, নৈতিকতা ও আত্মবিশ্বাসের শিক্ষা। শিশুরা নিজেরাই প্রয়োজনীয় জিনিস নেবে এবং নিজেরাই মূল্য পরিশোধ করে।বিদ্যালয়ে স্থাপিত নৈতিক দেয়াল জানান দেয় প্লে থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রতিদিনের ভালো কাজের একটি করে উদাহরণ। ২৮ জুলাই ২০১৬ ইং তারিখে যোগদান করার পর থেকে প্রধান শিক্ষক গোলাম রাব্বানী সেলিম বিদ্যালয়ের অবকাঠামোর দিকে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত করেছেন।
স্থানীয় বেশ কজন অভিভাবকের সাথে কথা বললে তারা জানায়, বিদ্যালয়ে পড়াশোনার মান খুবই ভালো হওয়ায় প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমাণ শ্রেণীকক্ষ না থাকায় জরাজীর্ণ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা গাদাগাদি করে ক্লাস করেন। বর্তমানে প্রধান সমস্যা হচ্ছে ভবন সংকট।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম রব্বানী সেলিম এই প্রতিবেদক কে জানায়,বর্তমানে আমাদের এই বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী ও ঝাড়ুদার পোস্টে কোন কর্মচারী না থাকায় প্রতিনিয়ত বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সেই সাথে শ্রেণীকক্ষে যথেষ্ট ক্লাস রুম না থাকায় পাঠানে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এমতাবস্থায়, অভিভাবক শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সামাজিক রাজনৈতিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ একটি ভবন বরাদ্দর জন্য জেলা প্রশাসক উপজেলা প্রশাসন এবং জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার বৃন্দের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য,দেশে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে এখন তৈরি হয়েছে দৃষ্টি নন্দন ভবন আর অবশিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কোথাও শুরু হয়েছে নির্মাণ কাজ, কোথাও শুরুর অপেক্ষা। সরকারি ভাষ্য নয় বরং বিশ্বব্যাংক, ইউনেস্কো, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামসহ আন্তর্জাতিক দাতা ও গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশের শিক্ষার অগ্রগতিকে অন্যদের জন্য উদাহরণ অভিহিত করে বলছে, শিক্ষায় প্রতিটি পর্যায়ে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। শিক্ষার অন্যান্য সূচকের চেয়ে কোন অংশেই পিছিয়ে নেই শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নের।
সম্পাদক : শাওন আমিন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মোঃ গিয়াস উদ্দীন, নির্বাহী সম্পাদক : ঝড় আমিন প্রকাশক : মোঃ সোহরাব আলী
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: হালিশহর, চট্রগ্রাম। ঢাকা অফিস : বাসা নং ৫১/৩ ধানমন্ডি ৩/এ ঢাকা-১২০৯
মোবাইল : 𝟎𝟏𝟕𝟏𝟐𝟒𝟏𝟓𝟖𝟓𝟑 𝟎𝟏𝟓𝟖𝟎𝟖𝟐𝟎𝟔𝟔𝟑 𝟎𝟏𝟕𝟏𝟐𝟎𝟔𝟏𝟏𝟔𝟑 𝐄-𝐦𝐚𝐢𝐥 : 𝐬𝐡𝐚𝐰𝐨𝐧𝐚𝐦𝐞𝐞𝐧𝟓@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦