আটোয়ারী প্রতিনিধিঃআটোয়ারীতে ওয়ার্ড বিএনপির সেক্রেটারি কর্তৃক এক বিধবাকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার আলোয়াখোয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ও ওই ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয় গোবিন্দ পাল কর্তৃক এক মধ্য বয়সী বিধবা (৪০) নারীকে ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগ ওঠেছে।
ভিকটিম ওই বিধবা নারী আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৮ আগষ্ট সকালে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হন।
সেখানে তিনি সাংবাদিকদের জানান, গত আট মাস আগে তার স্বামী অসুস্থতাজনিত কারনে মারা যান। স্বামী মারা যাওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জয় গোবিন্দ প্রায় ভিকটিমকে ফোনে অথবা সরাসরি কু-প্রস্তাব দিয়ে আসতো। এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ আগষ্ট গভীর রাতে ভিকটিম প্রাকৃতিক ডাকে ঘরের বাইরে বের হন।
এসময় ভিকটিমের অগোচরে গোবিন্দ ভিকটিমের শয়ন কক্ষে প্রবেশ করে। ভিকটিম এসময়য় দরজা বন্ধ করে বিছানার দিকে এগিয়ে গেলে পিছন থেকে জয় গোবিন্দ ভিকটিমকে জড়িয়ে ধরে তার শরীরের ভিন্ন জায়গায় হাত লাগিয়ে ধ্বস্তাধ্বস্তি শুরু করেন।
সেসময় ভিকটিমের চিৎকারে দশম শ্রেণীতে পড়ুয়া তার বড় ছেলে ইমনকে ডাকেন। ইমন পাশের কক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে এসে মায়ের কান্নার শব্দ শোনে ভয় পেয়ে প্রতিবেশীদের ডাক দেন। এবং আত্মরক্ষার জন্য বাহির থেকে প্রতিটি কক্ষের দরজা তালা লাগিয়ে দেন। সেসময় জয় গোবিন্দ ঘরের ভেতরে আটক থাকা অবস্থায় সে টিনের চালা ফাটিয়ে পালিয়ে যান। সেসময় ভিকটিমের ছেলে ইমন জয় গোবিন্দর পা ধরে টেনে নামানোর চেষ্টা করেও এ তাকে আটক করে রাখতে সক্ষম হননি। পরে ভিকটিম জাতীয় জরুরি সেবা- ৯৯৯ এ ফোন করে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় কাক ডাকা ভোরে আটোয়ারী থানায় ছুটে আসেন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। তিনি স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে অভিযুক্ত জয় গোবিন্দ পাল এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন।
অভিযুক্ত জয় গোবিন্দ পালের সাথে কথ্য বললে তিনি বলেন, আমি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়ার পর এ বিষয়ে আপনাদের বক্তব্য প্রদান করবো।
এব্যাপারে আটোয়ারী থানার ওসি মোঃ রফিকুল ইসলাম সরকার জুয়েল জানান, আমি ঘটনাটি জেনেছি। ভিকটিমের কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এদিকে এলাকার দয়াল পাল সহ আরো অনেকে বলেন, ঘটনাটি সত্য। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।