শ্যামলী আকতার, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারে অনিয়ম দুর্নীতির পাগলা ঘোড়ার লাগাম টানার ক্ষমতা বোধ হয় কারা অধিদপ্তরের নেই। লাগামহীনভাবে একের পর এক অনিয়ম দুর্নীতি হচ্ছে, সেসব দুর্নীতির তথ্য প্রমাণ সহ ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক বরাবরে তদন্তের জন্য লিখিত আবেদনের পরে কারা অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ব্যক্তিগত শুনানীর নামে ঢাকায় ডেকে নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের ভয় ভীতি প্রদর্শন করে ও অভিযোগকারী ঠিকাদারকেই কৈফিয়ত তলব করে। অথচ যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই ডি আই জি প্রিজন তৌহিদুল ইসলাম ও অফিস সহকারি মাহাবুব এর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি। কারা অধিদপ্তরের এহেন নীতি বিবর্জিত কার্যকলাপ সবাইকে বিস্মিত করেছে।
ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, আব্দুল করিম নামের ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারের একজন তালিকাভূক্ত ১ম শ্রেণির ঠিকাদার গত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের ২য় মেয়াদে টেন্ডারে অংশগ্রহণ করে মালামাল সরবরাহ করে আসছিল। গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৫ – ২৬ অর্থবছরের প্রথম মেয়াদের দরপত্র গহণ করা হয়। এই দরপত্রে ১২টি গ্রুপের মধ্যে রেনু রাণী ঘোষ ঠিকাদার (তিনি নিজে গত ৫৩ বছর জেলা কারাগারে একচাটিয়া সবজি সরবরাহ কাজ করেন ) ৯টি গ্রুপে নিম্ন দরদাতা হন। আব্দুল করিম ৩টি গ্রুপে নিম্ন দরদাতা হন। এই ৩টি গ্রুপের মধ্যে ২টি গ্রুপ যার আই ডি নম্বর ১১২০১১৬ অপরটি ১১২০১৬৪ একটি তাজা সবজি অপরটি মশলা। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে আব্দুল করিমের প্রাপ্ত ৩টি গ্রুপের মধ্যে এই ২টি গ্রুপ ডি আই জি রংপুর ও ঠাকুরগাঁও কারা সহকারী যোগ সাজসে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কারচুপি করে ২য় দরদাতা রেনু রাণী ঘোষকে সুপারিশ প্রদান করেন। অপরদিকে রেনু রাণী ঘোষ ৯টি গ্রুপে অস্বাভাবিক নিম্ন দরদাতা হলেও তার প্রাপ্ত কোন প্রুপ ২য় দরদাতাকে দেয়া হয়নি। অর্থাৎ তার অস্বাভাবিক নিম্ন দরকে মেনে নেয়া হয়েছে।এব্যাপারে ঠিকাদার আব্দুল করিম ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারের তত্বাবধায়কের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কারা সহকারি মাহাবুব সাহেবকে দোষারোপ করে বলেন “ তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম কাগজপত্র আমার কাছে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে যান। তিনি কখন কীভাবে এটা সুপারিশ করিয়ে নিয়ে গেছেন তা আমার জানা নেই”। উল্লেখ্য এই রেণু রাণী ঘোষের সরবরাহকৃত মালামাল এতটাই নিম্নমানের ছিল যে ঠাকুরগাঁও জেলার সবজি ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে জেলার অপরাপর প্রতিষ্ঠানগুলো যেগুলো শাক সব্জি ও মাছ মাংস সরবরাহ নিয়ে থাকেন তারা সবাই অবগত আছেন। সেখানে একজন উন্নত মালামাল সরবরাহকারী হিসাবে খ্যাত ঠিকাদার নিজ যোগ্যতায় কাজ পেলেও অনিয়তান্ত্রিকভাবে তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, রেণু রাণী ঘোষ পতিত আওয়ামী পরিবারের একজন সদস্য । রেণু রাণী ঘোষের ছেলে যুবলীগের একজন নেতা। ২৪ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তিনি আন্দোলনে অংশ নেয়া ছাত্র জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এমন একটি পরিবারকে ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ এখনও অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে বিশেষ সুযোগ সুবিধা প্রদান করে আসছে এবং বর্তমান টেন্ডারেও তাকে বিশেষ সুযোগ দিতেই এই অনিয়মের ঘটনা ঘটানো হয়েছে, যা বিস্মিত করেছে সকল শ্রেণির সচেতন মানুষকে। এ ঘটনা ঘটার পর ভুত্তভোগী ঠিকাদার আব্দুল করিম তদন্ত চেয়ে কারা অধিদপ্তরের মহা পরিদর্শককে লিখিতভাবে বিষয়টির তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ করেন। এর পরই কারা অধিদপ্তর থেকে আব্দুল করিমকে ব্যক্তিগত শুনানীর নামে ঢাকায় ডেকে নিয়ে মামলার ভয় দেখান এবং তার বিরুদ্ধে কৈফিয়ত তলব করেন। ব্যক্তিগত শুনানীতেও ঠিকাদার আব্দুল করিম তার পেশকৃত অভিযোগের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন এবং সরেজমিন তদন্তের দাবি জানান।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে ডি আই জি প্রিজন (রংপুর) দপ্তরটির সম্পর্কেও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। এ অফিসটি জেলা কারাগারগুলোর নানা প্রকার অনিয়ম দুর্নীতির পক্ষ নিয়ে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অফিসে নগদ উপঢৌকন( টাকা) ছাড়া কারো সাথে কোন কথা বলা যায়না। জেলা কারাগার গুলোর সকল অনিয়ম এখানে টাকার বিনিময়ে নিয়মে পরিনত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ঠিকাদার আব্দুল করিমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমার সাথে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে, আমি অভিযোগ করেছি। তার কোন সুরাহা না করে আমাকে কীভাবে অবদমিত করা যায় সে চেষ্টায় ব্যস্ত কারা অধিদপ্তর। তিনি আরও বলেন ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারে যত অনিয়ম দুর্নীতি হয় তার রক্ষা কবচ ডি আই জি প্রিজন। যেহেতু একজন ঠিকাদার একটি অভিযোগ করেছে , তার প্রেক্ষিতে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা কারা মহা কারা পরিদর্শকের উচিত ছিল কিন্তু তিনি তা করেননি।
ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারের অভ্যন্তরে সংঘটিত নানা অনিয়ম দুর্নীতি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও ঠিকাদার আব্দুল করিমের গ্রহণযোগ্য নিম্ন দরদাতা হিসেবে প্রাপ্ত দুইটি গ্রুপের কাজ তাকে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন ঠিকাদারগণ।