
ফজলার রহমান গাইবান্ধা থেকে ঃস্কুল নয় যেন মরণ ফাঁদ,অনেক পুরাতন চার রুম বিশিষ্ট জরাজীর্ণ একটি ভবন। ভবনের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল।একতলা ভবনটির বিম ও স্তম্ভের (কলাম) বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। সেখানে মরিচা ধরা রডগুলো বের হয়ে এসেছে। ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারাও খসে পড়েছে। কয়েক বছর আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের একটি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করে আসছে শিক্ষকেরা।
গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার ৯ নম্বর হরিনাথপুর ২ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিনযাবত উন্নয়নবঞ্চিত।মুখ থুবড়ে পড়েছে শিক্ষার মান। বিদ্যালয়টি কয়েক বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও বিকল্প ভবন না থাকায় আজও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে পাঠদান। ছাদে ফাটল, দেয়ালে পলেস্তারা খসে পড়া, সামান্য বৃষ্টিতেই চুঁইয়ে পানি পড়া—সব মিলিয়ে অস্বাস্থ্যকর ও ভয়াবহ পরিবেশে প্রতিদিন ক্লাস করছে কোমলমতি শিশুরা।
সরেজমিনে গিয়ে বিদ্যালয় সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয়টি ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৯৯৪/৯৫ সালে চার কক্ষবিশিষ্ট একটি ভবন নির্মিত হয়। কিন্তু ২০২০ এবং সর্বশেষ ২০২৩ সালে উপজেলা শিক্ষা অফিস কর্তৃপক্ষ ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বলে জানান শিক্ষকরা। পরবর্তী সময়ে কোনো বরাদ্দ না পাওয়ায় সেই ভবনেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রম। চারটি কক্ষ সম্পূর্ণ অনুপযোগী হওয়া শর্তেও একটি কক্ষে একাধিক ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।অপরদিকে স্লিপের বরাদ্দের টাকায় ভবনের সাথে লাগিয়ে ছোট্ট একটি টিনশেটঘরে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে দেখা যায়। জায়গা না থাকায় অনেক শিক্ষার্থীকে RDRS এর সহোযোগিতায় ২০১২ সালে নির্মিত কাম বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের দুটি রুমের একটিতে ক্লাস করেন এবং অপর একটি রুম শিক্ষকরা অফিস রুম হিসেবে ব্যবহার করেন। বিদ্যালয়ে নেই গাইড ওয়াল,সব মিলিয়ে সম্পূর্ণ অনুপযোগী একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র রানা আকন্দ জানায়, তারা ভয়ে ভয়ে ক্লাস করে; কখন কী ঘটে যায় সেই আতঙ্ক সবসময়ই কাজ করে। মিতি খাতুন জানায়, বৃষ্টি হলেই ছাদ থেকে পানি পড়ে এবং দেয়ালের পলেস্তারা ঝরে পড়ে। মাহমুদা আক্তার জানায়,ক্লাস চলাকালীন সময় ছাদের দিকে তাকালে আমাদের মনের ভিতর ভয় কাজ করে।
পঞ্চম শ্রেণির বেশ কজন শিক্ষার্থী জানায়, আমাদের বিদ্যালয় ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং ভয়ংকর। যে কোন মুহূর্তে ভেঙে পড়ার ভয় যে কারণে আমরা টিনশেড ঘরে ক্লাস করি।
এ বিষয়ে কথা বললে বেশ কজন অভিভাবক এই প্রতিবেদককে জানায়, বিদ্যালয়ের অবস্থা না দেখলে বোঝা যাবে না কী ভয়াবহ পরিবেশে শিশুরা পড়ালেখা করছে।বিদ্যালয়টি অবহেলিত হওয়ায় শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নেই; ফলে অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আঃ আজিজ বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান সমস্যা ভবন সেই সাথে সংকট শিক্ষক। অকেজো ভবনে ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হয়।বিদ্যালয়ে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে দুটি রুম স্থানীয়দের সহযোগিতায় একটি কে শ্রেণীকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করতেছি।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কবিতা সরকার জানান, ২০১২সালে জয়েন করার পর থেকেই আজ অব্দি এই অনুপযোগী ভবনটিতে নিয়মিত পাঠদান করে যাচ্ছি।ভবনটি অনুপযোগী হওয়ায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে দু বার। বরাদ্দের জন্য আবেদন করলেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি।বর্তমানে দুজন শিক্ষক ও ডেপুটেশনে একজন মোট তিনজন শিক্ষক প্রায় ৭০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে মানবেতর পরিবেশে পাঠদান চলছে। তিনি জানান, বিদ্যালয়ের জন্য জরুরি ভিত্তিতে একটি নতুন ভবন উন্নয়ন প্রয়োজন।
এ বিষয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ জানান, অত্র বিদ্যালয় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে খুবই দ্রুত ব্যাবস্থা নেয়া হবে।
এমতাবস্থায় স্থানীয় অভিভাব, সামাজিক, রাজনীতিবি, শিক্ষক শিক্ষার্থী সহ এলাকাবাসী অত্র বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণে উপজেলা ও জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরী হস্তক্ষে ও সু -দৃষ্টি কামনা করেছেন।