
ফজলার রহমান গাইবান্ধা থেকে ঃগাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নে জুলাই যোদ্ধার বাবার প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের অভিযোগ অভিযোগ উঠেছে তারই ছোটভাই
শফিউল গং এর বিরুদ্ধে।
সোমবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী এক নারী তার নিজ বাড়ীতে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী নারীর নাম রোজেনা আক্তার মুক্তা। কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের সুলতানপুর বালুপাড়া গ্রামে। তিনি কিশোরগাড়ী মৌজায় প্রায় দেড় একর ধানি জমির মালিক।শশুরের কাছ থেকে পাওয়া বিগত ২০ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন।জমির খাজনা-খারিজও আছে তাঁর নামে। সম্প্রতি জমিগুলো দখল করা হয়েছে।এবং আরো জমি দখলের পাঁয়তারা করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে রোজেনা আক্তার মুক্তা জানায়, শফিউল ইসলাম (৪৫),পিতা-মৃত ইমার উদ্দীন, আঃ খালেক মিয়া (৬০), পিতা-মৃত ইমার উদ্দীন, (চাচা শশুর) মোঃ কাওসার মিয়া (৩৫),পিতা আঃ খালের, (দেবর)৪। মোঃ জালিম মিয়া (৬২), পিতা-মৃত ইমার উদ্দীন (চাচা শশুর),সর্ব সাং-কিশোরগাড়ী, থানা-পলাশবাড়ী, গাইবান্ধাসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন। উক্ত বিবাদীগণ আমার চাচা শ্বশুর এবং দেবর হয়। তাহাদের সাথে আমার শশুর মারা যাওয়ার পর থেকে দীর্ঘদিন যাবত জমা-জমি সংক্রান্ত বিষয়াদি লইয়া মনোমালিন্য চলিয়া আসিতেছে। নিম্নে তফশিল বর্ণিত জমি আমি কবলা দলিল মুলে প্রাপ্ত। তফশিল বর্ণিত জমি আমিসহ আমার স্বামী চাষাবাদ করিয়া আসিতেছি। এমতাবস্থায় আমার চাচাশ্বশুর ও দেবর মিলে জামিল মিয়ার কথামত ভোগ দখলীয় তফশিল বর্ণিত জমি অন্যায় ভাবে দখল করার উদ্দেশ্যে ২৮/১১/২০২৫ ইং তারিখ দুপুর অনুমান ১২.০০ ঘটিকার সময় জমিতে গেলে আমিসহ আমার স্বামী আবু তাহের ও আমার ছেলে সালমান মিয়া নিষেধ করায় আমাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়।এ সময় তাহাদের হাতে থাকা বাঁশের লাঠি, লোহার রড, লোহার পাইপ দ্বারা আমাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথারী মারপিট করিয়া ছেলা ফুলা জখম করে। বাঁশের লাঠি দ্বারা আমার মাথার বাম পার্শ্বে কানের নীচে, গালে ও গলায় এলোপাথারী মারডাং করিয়া কালশিরা ফুলা বেদনা দায়ক জখম করে।আমার গলায় থাকা ১২ আনা স্বর্ণের চেইন যাহার মূল্য ৮০,০০০/- টাকা ছিনাইয়া লয়। আমাদের ডাকচিৎকারে স্থানীয় মুগ্ধ মিয়া, পিতা-মোঃ আবু তাহের সহ বেশ কজন এলাকাবাসী আমাদের রক্ষা করে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়,জালিম মিয়া জুলাই যোদ্ধার পিতা হওয়ায় ঐ এলাকার প্রভাব বিস্তার করে মানুষকে নানা ভাবে হয়রানি করে আসছে।তারই প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে তার ছোট ভাই শফিউল ইসলাম
জমিটিতে দেশি অস্ত্রশস্ত্র ও সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমাদের উপর হামলা করে জোরপূর্বক ধানি জমিতে শরিষা বীজ বপন করে দখলে নেন।
এমতাবস্থায়, প্রাণ বাঁচাতে আমরা আর জমির দিকে যেতে পারিনি। পরে আমি ওই জমি ফিরে পেতে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে পলাশবাড়ী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি। এ অবস্থায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।’ সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি
আইনের সহায়তা প্রদানের জন্য পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,পুলিশ সুপার গাইবান্ধা ও জেলা প্রশাসক গাইবান্ধার সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করেছেন।
পরে রোজেনার স্বামী আবু তাহের সাংবাদিকদের জানায়,আমার চাচা একজন ভূমিদস্যু বটে। তিনি ইতিপূর্বে দীর্ঘদিন যাবত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগের সাথে অন্যায় অত্যাচার করা সহ জমি দখল করার পায়তারা করেছে। যার নামে সে সময় থানায় বেশ কয়েকটি অভিযোগ হয়েছিলো।বর্তমান সময়েও জুলাই যোদ্ধার বাবা হওয়ায় এলাকায় একই কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে। এমন কি আমি নিজের ভাতিজা হওয়া সত্বেও আমার জমি দখলের জন্য আমার পরিবারের উপর হামলা চালায় চালিয়েছে। প্রতিনিয়ত হুমকি ধামকি দিয়েই যাচ্ছে। বর্তমানে আমি আমার পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
তফশিল বর্ণিত জমিঃমৌজা-কিশোরগাড়ী জেএল নং-০১ খতিয়ান নং…দাগ নং-১৩৮২,১৩৮৪ মোট ১১ শতক নালিশী জমি।
সংবাদ সম্মেলন পাঠকালে রোজেনা আক্তার মুক্তার স্বামী আবু তাহের,প্রতিবেশী আবুল হোসেন (৭৬)
কদ্দুস মিয়া (৬০),শাহআলম (৬০) ও হাবিজার রহমান (৫৭) উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে পলাশবাড়ী থানা পুলিশের একটি টিম ৩০ নভেম্বর রবিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় আহত রোজেনা আক্তার মুক্তা পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসাধীন রয়েছেন।