
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগন্জ ভোমরাদহ জামিয়া নিজামিয়া মাদ্রাসা এতিমখানায় এ অনিয়ম ধরা পড়েছে |
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় – দীর্ঘ ৮ বছর যাবৎ একই কমিটি বহাল থাকায় মাদ্রাসাটির অনিয়ম চরম আকার ধারণ করেছে | সমাজকল্যাণ থেকে ২০ জন ছাত্রকে এতিম দেখিয়ে প্রতি মাসে ৪০,০০০ হাজার টাকা আদায় করছেন কমিটিতে থাকা ব্যক্তিরা | কমিটিতে সভাপতি পদে আছেন আব্দুস সামাদ সাধারণ সম্পাদক পদে আছে রেজুয়ানুল হক এবং ক্যাসিয়ার পদে আছেন জুয়েল |
জানা যায়– মাদ্রাসার পুর্বের সুপারের সাথে কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং ক্যাশিয়ারের বনিবনা না হওয়ায় তাকে মাদ্রাসা থেকে বের করে এক মাস আগে নতুন সুপার নিয়োগের মাধ্যমে মাদ্রাসাটির দায়িত্ব দিয়েছেন | সুপারকে দায়িত্ব দেওয়ার আগে বলে দেওয়া হয়েছে মাদ্রাসায় ছাত্র পড়াবেন, বেতন নিবেন এটুকুই আপনার দায়িত্ব অন্য বিষয় নিয়ে নাক গলাবেন না | মাদ্রাসাটিতে গিয়ে দেখা যায় মাত্র ৩০ জন ছাত্র আছে তার মধ্যে এতিম মাত্র ২ জন কিন্তু সমাজকল্যান অফিসে ৬৫ জন ছাত্র দেখানো হয়েছে বাকী ছাত্ররা সবাই স্বাবলম্বী হওয়ায় তাদের অসহায় দুস্থ দেখিয়ে মাসের পর মাস সমাজকল্যাণ থেকে টাকা উত্তোলন করে ভাগ বাটোয়ারা করছেন সাধারণ সম্পাদক এবং ক্যাশিয়ার | বছরে বিভিন্ন জায়গা থেকে যেমন- এমপি,পিআইও,স্থানীয় প্রভাবশালী মানুষদের কাছ থেকেও সুবিধা নিয়ে থাকেন মাদ্রাসা কমিটি | প্রত্যেক ছাত্রের কাছ থেকে মাসে ১৫০০ থেকে ৫০০ টাকা নেন মাদ্রাসার কমিটি |
সহকারী শিক্ষক হাফেজ মোজাম্মেল জানান – এটা শিক্ষার নামে ব্যবসা করছে কমিটি | শিক্ষকদের বরাদ্দের বিষয়ে কোন কিছু জানায়না কমিটি |
সুপার হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ জানান- আমি নতুন আসছি মাদ্রাসায় | মাদ্রাসার সব হিসাব নিকাশ কমিটির কাছে |
অনিয়মের বিষয়ে ক্যাশিয়ার জুয়েলকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান– মাদ্রাসায় আমি দীর্ঘদিন ধরে ক্যাশিয়ার আছি | যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তি না থাকায় আমি স্বপদে বহাল আছি | পাশাপাশি চায়ের দোকান করি |
পীরগন্জ সমাজসেবা অফিসের ফিল্ড সুপারভাইজার রফিকুলকে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি জানান– বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে |