ফজলার গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ-গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর নৃশংস হামলার প্রতিবাদে শনিবার গাইবান্ধায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গণ অধিকার পরিষদের উদ্যোগে দলীয় কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরাতন জেলা খানা মোড়ে এসে এক সমাবেশে মিলিত হয়। এসময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি শামসুজ্জামান সিদ্দিকী মামুন, সাধারণ সম্পাদক সামিউল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক রুমন বসুনিয়া, জুলাই যোদ্ধা সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুর রহমান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহবায়ক মাসুদ রানা, সদস্য সচিব বায়েজিদ বোস্তামী জিম, এনসিপি সংগঠক আতিকুর রহমান, ছাত্রশিবির ইসলামী আন্দোলন ও অন্যান্য দলের নেতাকর্মীরা।
বক্তারা বলেন, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নুরের ওপর নৃশংস হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে তারা বলেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়ও বেশ কয়েকবার হামলার শিকার হন নুর। গত বছরের ৫ আগস্টের পর সরকার বদলেছে, তবুও নুরের ওপর এমন হামলা ন্যাক্কারজনক ঘটনা কেন ঘটলো তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। সেইসাথে এই হামলার সাথে যারা জড়িত রয়েছে তাদেরকে দ্রæত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পরে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে শহরের কাঠপট্টি এলাকায় জাতীয় পার্টি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। জাপা নেতাকর্মীরাও এ সময় কার্যলয় ও সংলগ্ন চত্বরে উপস্থিত ছিলেন। দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। কিন্তু এক পর্যায়ে জাপা কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয়।
জেলা জাপা সভাপতি সারোয়ার হোসেন শাহীন বিকালে এক বিবৃতিতে এই হামলা ও ভাংচুরের তীব্র নিন্দা ও দোষীদের গ্রেফতার দাবি করে বলেন, সংগঠন মিলনায়তনে কেন্দ্রীয় অফিসে হামলার প্রতিবাদে এক সভা চলছিল। সভা চলাকালীন সময়ে এক দফা হামলার চেষ্টা করা হয়। জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা তাদের প্রতিহত করার আগেই আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে তারা পিছু হটে। পরবর্তীতে বিকাল ৪টার পর সভা শেষে জাপা নেতাকর্মীরা অফিসে তালা মেরে অফিস ত্যাগ করার পর বৃষ্টির মধ্যে ১০ থেকে ১৫ জন ছেলে সাইন বোর্ড ও অফিসের সার্টার ভাংচুর করে। তিনি এই হামলাকে কাপুরুষোচিত বলে আখ্যায়িত করেন।