
নিজস্ব প্রতিবেদক।। ২৩ শে নভেম্বর হতে জেলার স্কুল পড়ুয়া হাজার হাজার শিশুর জন্য পরীক্ষার মাধ্যমে পরবর্তী ধাপের উত্তরণের মাস। অথচ, অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, শিশুদের বার্ষিক পরীক্ষার ঠিক প্রাক্কালে ঠাকুরগাঁও শহরে সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে পাঠাগার মাঠে বিসিক এর আয়োজনে এবং রোড যুবসংসদ মাঠে চেম্বার অবকমার্স এর বানিজ্য মেলার আয়োজন চলছে। এই অপরিণামদর্শী কার্যক্রম আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অভিভাবক ও শিক্ষকমহলের অভিযোগ—মেলা মানে উচ্চশব্দের মাইকিং, রাতে, গান-বাজনা এবং মেলার কোলাহল শিশুদের মনোযোগ কেড়ে নিবে। যে সময়টিতে তাদের শান্ত পরিবেশে মনোযোগ সহকারে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা, সে সময়ে তারা প্রবল শব্দদূষণ এবং মানসিক অস্থিরতার শিকার হবে। শিক্ষাবিদরা যথার্থই আশঙ্কা করছেন যে, এর ফলে এবারের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
শিশুদের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটানো মানে কেবল সাময়িক ক্ষতি নয়, এটি তাদের শিক্ষাজীবনের ভিত্তি দুর্বল করে দেয়। যখন একজন অভিভাবক হতাশ হয়ে বলেন যে মেলার দাপটে তাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে আসছে, তখন এই পরিস্থিতিকে কেবলমাত্র ‘শব্দদূষণ’ বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না; এটি শিক্ষার অধিকারের ওপর এক ধরনের আঘাত। সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয়টি হলো স্থানীয় প্রশাসনের ব্যর্থতা। শিক্ষাবর্ষের এই সংবেদনশীল সময়ে এমন ধরনের বাণিজ্যিক ও বিনোদনমূলক কার্যক্রমের অনুমতি প্রদান করা কতটা যুক্তিযুক্ত ছিল, সেই প্রশ্ন এখন তীব্রভাবে উত্থাপিত হচ্ছে। প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল শিশুদের শিক্ষার পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখা। কোন অদৃশ্য কারণে শিশুদের শিক্ষার স্বার্থের চেয়ে মেলা আয়োজকদের সুবিধা-অসুবিধাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারের প্রতি আমাদের বার্তা স্পষ্ট: শিশুদের ভবিষ্যৎ কোনো ক্ষণস্থায়ী বিনোদনের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। যদি অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে এই শিক্ষাবর্ষের ব্যর্থতার দায়ভার প্রশাসন এড়াতে পারবে না প্রশাসন অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেবে এবং ঠাকুরগাঁওয়ের প্রতিটি শিশু যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারে, তা নিশ্চিত করবে।
ছবি টা যোগাড় করে দিচ্ছি