
নিজস্ব প্রতিবেদক।।স্বাধীণতার ঊষা লগ্নে এই দিনে মহারাজা গিরিজানাথ স্কুল মাঠে ঘটে যায় দেশের ইতহিসে মাইন বিষ্ফোরনে এক সাথে নিহত ৫ শতাধিক মুক্তযোদ্ধা প্রাণ হারায়।দিনটিকে স্মরণে আজ মহারাজা স্কুল মাঠে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কবর জিয়ারত,স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পন ও আলোচনাসভার মধ্য দিয়ে আজ মঙ্গলকবার দিনাজপুরের মহারাজা স্কুল ট্রাজেডি দিবস পালন করা হয়েছে। ৬ জানুয়ারী স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে সকাল ৯টায় চেহেল গাজী মাজার প্রাঙ্গনে শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পন করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষায় শপথ গ্রহন করা হয়। পরে একই স্থনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবর জিয়ারত করা হয়। এর পর ঘটনাস্থল মহারাজা গিরিজানাথ হাই স্কুল প্রাঙ্গনে স্থাপিত শহীদ ষ্মৃতি ফলকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পন করা হয়।
বেলা ১১টায় দিনাজপুর প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুল হক ছুটুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সুলতান কামাল উদ্দিন বাচ্চু, দিনাজপুর প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ প্রমুখ। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের সুর্য্য সন্তানরা দেশ সাবাধীণতার পর পরই মহারাজা স্কুল মাঠে ট্রানজিট ক্যাম্পে শত্রæসেনাদের মাটিতে পুতে রাখা মাইন তুলে এনে বড় গর্ত করে জমা করে রেখেছিল। হঠাৎ সব মাইন বিস্ফারণ হলে ভয়াবহ বিকট শব্দে ভূ-কম্পন্নেরে সৃষ্টি হয়ে ক্যাম্পে অবস্থানরত ৮ শত মুক্তিবাহিনীর মধ্যে ৫ শতাধিক মৃত্যু বরণ করে। বাকির হাত পা হারিয়ে ক্ষত বিক্ষত হয়ে পুঙ্গুত্ব বরণ করে। এমন বিরল ট্রাজেডির ঘটনা দেশে আর দ্বিতীয়টি নেই। তাই নতুন প্রজন্মেও কাছে মুক্তিযোদ্ধাদের আত্ম ত্যাগের কথা ,বীর সেনাদরে এত বড় ঘটনার করুণ অধ্যায় পাঠ্য পুস্তকে তুলে ধরার দাবী জানান তারা।
উল্লেখ্য, স্বাধীনতার যুদ্ধ জয়ের মাত্র ২২ দিনের মাথায় ১৯৭২ সালের ৬ জানুয়ারী দিনাজপুরে মহারাজা গিরিজানাথ হাই স্কুলে স্থাপিত মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রানজিট ক্যাম্পে ভয়াবহ মাইন বিস্ফোরন ঘটে। হতাহতের সঠিক সংখ্যা আজও অজানা থাকলেও প্রানহানীর সংখ্যা ৫ শতাধিকের কম নয়।