নালিশ করবো কিসে?
সলিম চাষির জমি কেড়েছে পাড়ার ইদ্রিসে।।
হতদরিদ্র সলিম মিয়া কামলা দিয়ে খায়।
বাপের পাওয়া জমিনটুকু নিজ দখলে নাই।।
মামলা হলো জমির উপর লাগলো ভিষণ ল্যাঠা।
উকিল বাবু বলেন কিনা, “দখল আছে ব্যাটা?”
দে আরও দে বাস্তু বেচে জিততে চাইলে বোকা।
বাস্তু গেলো,যৌবন গেলো সলিম খেলো ধোকা।।
পেট পুরে পায়না খেতে সলিম দু’মুঠো ভাত।
খবর নিয়ে জানা যায় ছিল ভাইয়ের হাত।।
হা রে জীবন, কাঁন্দে সলিম ভাইয়ের নামটা নিয়ে।
ভাইয়ের সাথে শত্রুর আঁতাত বুঝবে কি দিয়ে।।
ভাই বড় ধন, রক্তের বাঁধন, প্রেমের অন্ত নাই,
কে জানিতো দুই মেরু হবে মায়ের পেটের ভাই।।
বাপটা যখন মারা গেলো ভিষণ দুরারোগে।
মা আর ল্যাদা ভাইরে নিয়ে সলিম ভিষণ ভোগে।।
আষ্ট কানি জমিন ছিলো বাপের থেকে পাওয়া।
ভাইয়ের চিন্তা করে তার স্কুল গেলো খোয়া।।
ভাইয়ের ক্লাশ,শিক্ষা সফর সব সলিমের দায়।
তবুও আপন ভাইকে দিয়ে বাবু বানানো চায়।।
ভাইয়ের পড়া হলো,চাকরি নিলো, ভাইয়ে করলো বিয়ে
কদিন বাদে লাগলো বিবাদ বাপের জমিন নিয়ে।।
বিবাদ টুকু গড়াইল উকিল,পুলিশ, কোর্ট।।
মুর্খ সলিম দিলের ভিতর খাইলো বেদম চোট।।
সুদের উপর টাকা নিয়ে চালায় কাচারি।
বাড়ছে দেনা, ধুঁকছে শরীর, নিরীহ বেচারি।।
মামলা চালানো সলিম মিয়ার সুদের টাকার ঝোক।
দাদন ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলীর জমির প্রতি চোখ।।
ধীরে ধীরে দেনার দায়ে জমিন দখল ছাড়া।
উকিল,সেরেস্তা পাক খাইতে সলিম ছন্ন ছাড়া।।
হা রে ভাই, ক্যামনে খোয়ালি আপন ভাইয়ের জমি?
শিক্ষিত তুই,চাকরি করিস, কিসে ছিল কমি!
কান্দে সলিম, রূগ্ন শরীর, অভাব রাত্র দিনে।
পাগল প্রায় সলিম এখন মৃত্যুর দিন গুনে।।