
ফজলার রহমান গাইবান্ধা থেকে ঃবাংলার কৃষিজীবী সমাজে শস্য উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে যে আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসব পালিত হয়, নবান্ন তার মধ্যে অন্যতম। এ উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাঙালির ঐতিহ্য। অগ্রহায়ণ মাসের শুরুতেই চলে উৎসবের নানা আয়োজন। নতুন ধান কাটা এবং সে ধানের প্রথম অন্ন ভোজনকে কেন্দ্র করে এ উৎসব পালন করা হয়। এ ঐতিহ্য ধরে রাখতে বাঙালি এ ধরনের আয়োজন করেন। এতে স্থানীয় শিল্পীরা গ্রামবাংলার লোকজ নৃত্য, গানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা তুলে ধরেন।নবান্ন কেবল একটি মৌসুমি উৎসব নয় এটি বাংলার পরিশ্রমী মানুষের জীবনচেতনা, সমবায়ের রীতি এবং শিল্প-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক। নতুন ধানের সুবাস, প্রকৃতির সোনালি রূপ এবং কৃষকের পরিশ্রমকে সম্মান জানানোর মধ্য দিয়েই এই উৎসবের মূল দর্শন তৈরি হয়।
নবান্ন উৎসবকে ঘিরে ঘরে ঘরে নতুন চালের ক্ষীর, পিঠা, পুলি, পায়েস আর ফিরনি দিয়ে মেহমানদের আপ্যায়ন করতে ধুম পড়ে যায়। পরিবারের সবাইকে নিয়ে তারা নতুন ধানের চালে নবান্ন উৎসব করেন।প্রতিটি বাড়িতে মেয়ে-জামাইসহ আত্মীয়-স্বজনদের আগে থেকেই দাওয়াত করা হয়।
১৮ নভেম্বর মঙ্গলবার সকাল থেকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের পুরাতন বন্দর এলাকায় নবান্ন উপলক্ষে মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।মেলায় হরেক রকমের পণ্যের পসরা সাজিয়েছেন বিক্রেতারা।মেলায় বিভিন্ন জাতের ছোট, বড় মাছের পসরা সাজিয়ে বসেন বিক্রেতারা।দই মিষ্টি মুড়ি-মুড়কি বাতাসার দোকান সারিবদ্ধভাবে বসেছে মেলায়।
মাঠে নতুন ধান ওঠে ঠিকই, কিন্তু নেই সেই প্রাণচাঞ্চল্য অপেক্ষার উত্তেজনা। আধুনিকতার ছোঁয়া, ব্যস্ততার চাপ আর ধর্মীয় কিছু ব্যাখ্যার কারণে নবান্নের অনুষ্ঠান আজ হারিয়ে যেতে বসেছে কালের বিবর্তনে।
বর্তমান প্রজন্ম নবান্নকে গল্পে, সিনেমায়, অথবা পাঠ্যবইয়ের পাতায় চেনার পাশাপাশি বাস্তবমুখী করতে
এমন আয়োজন বলে জানান আয়োজকেরা।