
নিজস্ব প্রতিবেদকঃঠাকুরগাঁওয়ে কিশোরীর সম্ভ্রমের ‘দাম’ আড়াই লাখ! সালিশের টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নেতাদের ভুরিভোজের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঠাকুরগাঁও সদরের কচুবাড়ি কেষ্টপুর এলাকায় বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও পরবর্তীতে সালিশের নামে টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ভুক্তভোগী কিশোরীর (১৬) সম্ভ্রমের মূল্য আড়াই লাখ টাকা নির্ধারণ করে, সেখান থেকে দেড় লাখ টাকাই নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে ভুরিভোজ করেছেন সালিশকারীরা।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কচুবাড়ি কেষ্টপুর এলাকার এনামুল হকের ছেলে রাহেল (৩২) আউলিয়াপুর ইউনিয়নের এক কিশোরীকে (১৬) গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে আসছিল। সম্প্রতি ওই কিশোরী জানতে পারে প্রেমিক রাহেল অন্যত্র বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ খবর পেয়ে গত শুক্রবার কিশোরী রাহেলের বাড়িতে উপস্থিত হলে রাহেল, তার বোন ও আত্মীয়-স্বজনরা তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এমতাবস্থায় উপায় না দেখে ওই কিশোরী বিয়ের দাবিতে প্রেমিক রাহেলের বাড়ির সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে।
বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয় এবং রাতে ওই কিশোরীকে রাহেলের চাচার বাড়িতে আশ্রয়ে রাখে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভিকটিমের জবানবন্দি রেকর্ড করে।
অভিযোগ উঠেছে, আইনি প্রক্রিয়ায় না গিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তৎপর হয়ে ওঠেন জেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কয়েকজন প্রভাবশালী বিএনপি নেতা। এদের মধ্যে রাহেল এর বড় চাচা জেলা বিএনপির নেতা, ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নুরুল মেম্বার, পুলক মেম্বার, আউলিয়াপুর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সুমন এবং সালান্দর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সহ স্থানীয় কয়েকজন নেতার নাম উঠে এসেছে।
নেতারা সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে ধর্ষণের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে কিশোরীর পরিবারের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন এবং ২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিষয়টি রফা করেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্ধারিত এই আড়াই লাখ টাকার মধ্যে মাত্র ১ লাখ টাকা ভুক্তভোগী পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয় বা দেওয়ার কথা থাকে, আর বাকি দেড় লাখ টাকাই নেতারা নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নেন এবং ভুরিভোজের আয়োজন করেন।
এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এত শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন স্বাধীনতায় আমরা কি তবে বিচারহীনতার সংস্কৃতেই ফিরে যাচ্ছি? একজন ধর্ষকের বিচার আদালতে না হয়ে টাকার বিনিময়ে গ্রাম্য সালিশে হওয়া এবং সেই টাকার ভাগ নেতাদের পকেটে যাওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক।” সচেতন মহল অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।