
পারভেজ হাসান,নিজস্ব প্রতিবেদক।। ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ৩ নং খনগাঁও ইউনিয়নে বিএডিসি অনুমোদিত সার ডিলার আলাল তালুকদারের বিরুদ্ধে সরকারি সার পাচার, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রিসহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে এবং সার না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ওই ইউনিয়নের কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী যে পরিমাণ ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপি সার ইউনিয়নে বিতরণের কথা, তার বড় একটি অংশ কৃষকদের হাতে পৌঁছাচ্ছে না। ডিলারের গোডাউনে সার থাকার পরও কৃষকদের “সার নেই” বলে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অথচ একই সার পাশ্ববর্তী এলাকায় বা খোলা বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক কৃষক জানান, সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার না পেয়ে তারা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে সার কিনছেন। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং সময়মতো জমিতে সার দিতে না পারায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
খনগাঁও ইউনিয়নের এক কৃষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের কৃষি কার্ড আছে, সব কাগজ ঠিক আছে। তারপরও সার পাই না। কিন্তু শুনছি আমাদের ইউনিয়নের সার বাইরে চলে যাচ্ছে।
আমরা এখন কী করব?”
আরেক কৃষক বলেন, “ডিলারের কাছে গেলে বলে সার শেষ। অথচ কিছুদিন পরই সেই সার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে—এটা আমরা নিজের চোখেই দেখেছি।”
অভিযোগ রয়েছে, ডিলার আলাল তালুকদার প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগসাজশে সরকারি সার পাচার করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন। এতে সাধারণ কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএডিসি সার ডিলার আলাল তালুকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি ।
এদিকে পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান “সার নিয়ে কোনো অনিয়মের অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসী ও কৃষকরা দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে সঠিক তদন্ত, সার পাচার বন্ধ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার নাজমুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ করেননি।