
বালিয়াডাংগী (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাংগী উপজেলায় শ্রমিকদলের সভাপতি মোঃ দবিরুল ডংগার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক অনিয়মের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি দীর্ঘ ১৬ বছর আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ছত্রছায়ায় থেকে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন, অথচ বর্তমানে নিজেকে বড় বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, দবিরুল ডংগার ছেলে মুক্তারুল সালাম চেয়ারম্যান নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এতে করে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—একই পরিবার দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেও কীভাবে হঠাৎ বিএনপির নেতৃত্ব দাবি করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বালিয়াডাংগী পাগলু স্ট্যান্ড এলাকা থেকে প্রতি মাসে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব কর্মকাণ্ড দেখার মতো কেউ নেই বলে অভিযোগ করছেন এলাকাবাসী।
আরও অভিযোগ উঠেছে, দবিরুল ডংগা নিজেকে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা দাবি করে ঠাকুরগাঁওয়ের সিনিয়র নেতাদের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করছেন। শ্রমিকদলে পদ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, তার বিরুদ্ধে বাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে এসব ঘর ও স্কুল দখল করে দেওয়ার মধ্যস্থতা করেছেন তিনি।
এলাকাবাসীর মধ্যে আরও প্রশ্ন উঠেছে—কোনো দৃশ্যমান ব্যবসা প্রতিষ্ঠান না থাকলেও তিনি কীভাবে সংসার চালান এবং সাম্প্রতিক সময়ে মোটরসাইকেল (পালসার) কিনলেন। স্থানীয়রা বলছেন, ৫ আগস্টের আগেও তার আর্থিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত দুর্বল।
চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দবিরুল ডংগাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি শ্রমিকদল ও বিএনপির সুনাম ক্ষুণ্ন করছেন।
এ বিষয়ে মোঃ দবিরুল ডংগার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, সময়মতো এসব অভিযোগের পক্ষে ভিডিওসহ আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে।